করপোরেট কোম্পানিগুলোর চাল বিপণন কার্যক্রমে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:৩৮ অপরাহ্ন   |   সম্পাদকের কথা


(এহছান খান পাঠান):
সব বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেশ কিছুদিন ধরে  চাল খাতে বড় বিনিয়োগ করছে।  বড় বিনিয়োগের রিটার্ন বা অতিমুনাফার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ধরনের কারসাজির আশ্রয় নেয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার তদারকিতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে কাজে লাগানো না হলে ভবিষ্যতে দেশের সবচেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যটির বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। তেমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টির আগেই চালের বাজারে বড় শিল্প গ্রুপের বিনিয়োগের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এ মুহূর্তে দেশের বাজারে রয়েছে ইস্পাহানি গ্রুপের ব্র্যান্ড পার্বণ, স্কয়ার গ্রুপের চাষী, টিকে গ্রুপের পুষ্টি, এসিআই গ্রুপের পিওর, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রাণ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল গ্রুপের রূপচাঁদা, আকিজ গ্রুপের এসেনশিয়াল, সিটি গ্রুপের তীর, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ, র্যাংকস গ্রুপের নবান্ন।
আগে মিলারদের কাছে ধান মজুত থাকত। এবার শুধু মিলার নয়, অনেকের কাছেই ধান মজুত আছে। মিলারদের সঙ্গে মৌসুমি ধান ব্যবসায়ী, বড় বড় শিল্প গ্রুপ ধান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে চালের উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও সরবরাহ বাড়লেও এগুলো এখন আর বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারছে না। মাঠ থেকে ধান ওঠার পরই কৃষক তার খাদ্য ও বীজ বাবদ কিছু রেখে বাকি ধান বিক্রি করে দেন। সেগুলোর বেশিরভাগই কিনে নেন মৌসুমি চাল ব্যবসায়ী, মিলার, আড়তদার, পাইকার, অনলাইন ব্যবসায়ীসহ কিছু প্রতিষ্ঠান। তারা এগুলো মজুত করেছেন। পরে গ্রাহকদের চাহিদা মতো কিছু বাজারজাত করছেন বাড়তি দামে। বাকিগুলো মজুত রেখেছেন আরও দাম বাড়লে বাজারে ছাড়বেন এই আশায়। ফলে এখন যারা চাল বাজারজাত করছেন, তারা নিজেদের মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন, বিষয়টি স্পষ্ট। আগে মিলার, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন তাদের পাশাপাশি অন্যরাও চালের বাজারে বড় নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ, বাজার কারসাজির বিষয়টি চিহ্নিত করা এখন আগের চেয়ে জটিল হয়ে পড়েছে।
দেশের পাইকারি বাজারে চাল বিপণন পদ্ধতি হচ্ছে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন মিল ও চাতালের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিনের নির্ধারিত বাজারমূল্যে চাল কিনে নেয়া। বাকি বা নগদ দামে কিনে নেয়া এসব চাল আড়তে এনে বাজারমূল্য অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বিক্রি করা হয় ছোট পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এ পদ্ধতিতে চালের দাম চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল থাকে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে থাকে। আর সরবরাহ কমতে শুরু করলে দামও বেড়ে যায়। কিন্তু বড় শিল্প গ্রুপগুলো চাল বিপণনে আসায় বাকিতে চাল কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। ফলে সংকটকালে দেশের সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল রাখা যাবে কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
এমনিতেই গ্রামগঞ্জে মিল ও চাতাল মালিকদের ধান সংগ্রহকালে অর্থাৎ মৌসুমের শুরুতে চালের দাম বেড়ে যায়। বড় কোম্পানিগুলো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করলে সরকার চাহিদা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারবে না। ফলে দেশের বাজারে চালের দাম বেশ বেড়ে যাবে। কিন্তু এর সুফল আবার মাঠের কৃষক পাবেন না। অথচ ভোক্তাদের ঠিকই বেশি দামে পণ্যটি কিনতে হবে। এসব সংকট মোকাবেলায় বড় কোম্পানিগুলোর চাল বিপণন কার্যক্রমের জন্য সরকারি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

(এহছান খান পাঠান, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)