বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ৫ সেতু

 প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন   |   লাইফস্টাইল




দুটি স্থানের সংযোগ তৈরিতে বহুকাল আগে থেকেই তৈরি করা হতো সেতু (ব্রিজ)। আধুনিককালে এসেও নদী বা কোনো আলাদা দুটি ভাগকে যুক্ত করতে এর গুরুত্ব কমেনি। বরং আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটেছে। মনে করা হয় প্রাচীন মেসোপটেমিয়াতে প্রথম সভ্যতার উত্থানের সময় সেতুর আবির্ভাব ঘটে। তবে ময়লার স্তূপ, কাঠ বা পাথর দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেসব সেতুর কোনো অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে টিকে থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম সেতুগুলো প্রাচীন রোমানদের দ্বারা তৈরি। তাদেরকে প্রাচীনকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সেতু নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের তৈরি সেতু আজও ব্যবহৃত হয়। এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন হয়ে আছে। তেমন ৫টি প্রাচীন সেতু নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

১. আর্কাদিকো সেতু (আরগোলিস, গ্রিস)

আর্কাদিকো সেতু কাজমার ব্রিজ নামেও পরিচিত। এই সেতুকে বিশ্বের প্রাচীনতম সেতু বলে মনে করা হয়। এটি একটি খিলান সেতু। প্রাচীনতম এই সেতু এখনো স্থানীয় জনসাধারণ ব্যবহার করেন। মাইসেনিয়ান (১৬০০-১১০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিক ব্রোঞ্জ যুগের শেষ পর্যায়) সময়ে আর্কাদিকো সেতু টিরিন্স এবং এপিডাউরোস শহরের মধ্যে একটি মহাসড়ক হিসেবে কাজ করেছিল। আর্কাদিকো সেতু ১৩০০-১১৯০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে নির্মিত হয়েছিল। এটি একটি বৃহত্তর মহাসড়কের অংশ ছিল। আর্কাদিকোর কাছে আরও তিনটি কর্বেল আর্চ ব্রিজ রয়েছে যার নকশা এবং বয়স একই বলে মনে করা হয়।

২. ট্যার স্টেপস

ট্যার স্টেপস হলো ইংল্যান্ডের সোমারসেটের এক্সমুর ন্যাশনাল পার্কে বার্ল নদীর ওপরে অবস্থিত একটি প্রাচীন ক্ল্যাপার ব্রিজ। ব্রিজের এই ধরনের বেশির ভাগই ডেভন ও ইংল্যান্ডের মুরে পাওয়া যায়। এর নির্দিষ্ট বয়স কত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে, ট্যারের ধাপগুলো কমপক্ষে ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের।

ট্যার স্টেপস ১৭টি বিশালাকার স্ল্যাব নিয়ে গঠিত। এর দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট। এটি ক্ল্যাপার ব্রিজের সেরা উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, ট্যার স্টেপগুলো শয়তান তৈরি করেছিল, যাতে সে পাথরে সূর্যস্নান করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যার পানিতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

৩. মেলস সেতু (ক্যারাভান ব্রিজ)

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে কয়েকটি সেতু আছে যা অনেক পুরোনো। মেলস নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি (সাধারণত ক্যারাভান ব্রিজ বলা হয়) বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ডেটেবল ব্রিজ, যা এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাচীন খিলানযুক্ত পাথরের স্ল্যাব সেতুটি ৮৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তুরস্কের ইজমিরে নির্মিত হয়েছিল। এক সময়ে ক্যারাভান সেতু ইজমির শহরে প্রবেশদ্বার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিক লেখক হোমারের জন্মস্থান হিসেবে মেলস নদী পরিচিত। হোমারের রচনায় নদী এবং ক্যারাভান সেতুর উল্লেখ রয়েছে।

৪. পনস ফ্যাব্রিসিয়াস

পনস ফ্যাব্রিসিয়াস বা পন্ট দেই কোয়াট্রো ক্যাপি সবচেয়ে পুরোনো একটি সেতু যা তার আসল অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। ৬২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে টিবার নদীতে এটি নির্মাণ করেছিল রোমানরা। এটি ৬২ মিটার বা ২০৩ ফুট লম্বা এবং ৫.৫ মিটার বা ১৮ ফুট উচ্চতায় নির্মিত।

ডিও ক্যাসিয়াসের মতে, একজন রোমান রাজনীতিক এবং ঐতিহাসিক পনস ফ্যাব্রিসিয়াস একটি পূর্ববর্তী কাঠের সেতুর পরিবর্তে এই সেতু নির্মাণ করেছিলেন। কাঠের সেতুটি পুড়ে গিয়েছিল। তার নামেই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। ব্রিজটি প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও এখন অক্ষত এবং ব্যবহার উপযোগী রয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে সেতুটি ব্যবহার করেন।

৫. আলকানতারা সেতু

আলকানতারা সেতু আরেকটি ইম্পেরিয়াল রোমান সেতু, যা আজও বিদ্যমান। রোমান সম্রাট ট্রাজান ৯৮ খ্রিষ্টাব্দে আদেশ জারি করার পর তাগাস নদীর ওপর এই পাথরের খিলান সেতু তৈরি করা হয়েছিল। আলকানতারা সেতুর নির্মাণ কাজ ১০৪ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছিল এবং দুই বছর পরে শেষ হয়েছিল। যদিও সেতুটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু এটি কয়েকবার মেরামত করতে হয়েছে। বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে সেতুটি অনেকবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। ১৯৬৯ সালে সর্বশেষ এর মূল স্তম্ভগুলো সম্পূর্ণরূপে মেরামত করা হয়।

তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, ওল্ডেটস ডট ওআরজি, ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও রিসার্চগেট ডট নেট