ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলে পাসপোর্ট চালু করতে যাচ্ছে রাশিয়া

 প্রকাশ: ২৬ মে ২০২২, ০১:০৯ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক



রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলের নাগরিকদের রুশ পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য বিশেষ আদেশ জারি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্থানীয় সময় বুধবার(২৫ মে) এই আদেশে সাক্ষর করেন।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।  
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের নাগরিকেরা যাতে সহজে রাশিয়ার পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারে সে বিষয়ে একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছেন। এই আদেশের ফলে ওই দুই অঞ্চলের রুশীকরণ আরও দৃঢ় হলো। যার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়ার স্থল যোগাযোগ আরও সহজ হয়ে উঠবে।

রাশিয়ার এমন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইউক্রেন।  

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রাশিয়ার অবৈধভাবে পাসপোর্ট ইস্যু করা স্পষ্টভাবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মূলনীতি ও মূল্যবোধেরও লঙ্ঘন। ’ 

 রুশ সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দনবাস অঞ্চলের দনেৎস্ক ও লুহানস্কের নাগরিকরাও চাইলে রাশিয়ার নাগরিক হতে পারেন। এই দুই অঞ্চলে ২০১৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে। সেই পাসপোর্ট প্রদান প্রকল্পেরই বর্ধিতাংশ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া সরকার।  

আবেদনকারীদের রাশিয়ায় বসবাস করার প্রয়োজন নেই এবং রাশিয়ান ভাষা পরীক্ষা পাস করার প্রয়োজন নেই বলেও রুশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।  

গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে খেরসনের ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। সেই সঙ্গে জানিয়েছিল তাঁরা জাপোরিঝিয়ারও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সে সময় খেরসনের গভর্নরকে পদচ্যুত করে সেখানে রাশিয়া সামরিক ও বেসামরিক যৌথ শাসন চালু করে। খেরসনের বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা খেরসনকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পুতিনের কাছে আবেদন জানাবেন। গত সোমবার (২৩ মে) খেরসনের প্রশাসন জানায়, সেখানে সরকারি মুদ্রা হিসেবে রুবল ব্যবহার করা হবে। জাপোরিঝিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে সরকারি মুদ্রা হিসেবে রুবল ব্যবহার হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।  

সূত্র: আল জাজিরা