আটলান্টিক সিটি গীতা সংঘের পুজামন্ডপ থেকে মন্দিরে হামলার প্রতিবাদ

 প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক



 যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বসবাসরাত বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তর সংগঠন শ্রী শ্রী গীতা সংঘের উদ্যোগে সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রী শ্রী গীতা সংঘ মন্দিরে। গত শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) দিন ছিল শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। এদিকে যেমনি ছিল পুজোর উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে ছিল প্রতিমা বিসর্জন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সিটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাংচুরের বেদনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।
 শুক্রবার দুপুরে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্রী শ্রী গীতা সংঘের উদ্যোগে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি উত্তম দাশ, সাধারন সম্পাদক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী, ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য কাঞ্চন চৌধুরী, বিপ্লব দেব, তৃপ্তি সরকার, এবং রত্না চক্রবর্তী।
নেতৃবৃন্দ বলেন বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে একটি অন্যতম শান্তিপ্রিয় দেশ। হিন্দু, বোদ্ধ, খ্রীষ্ঠান এবং মুসলমানরা সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শত শত বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই সম্প্রীতির বন্ধনকে বিনষ্ঠ করার জন্য কিছু উগ্রবাদী ব্যক্তি এবং দল দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর করেন।নেতৃবৃন্দ মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাংচুরের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।তারা বলেন শত বছরের সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখার জন্য  দেশের প্রশাসন এবং বিবেকবান নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার কারনে দেশে বর্তমানে হিন্দুদের হার ৩% নেমে এসেছে। তারা বলেন বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। তাই এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে আগামীতে জাতিসংঘ এবং হোয়াট হাউজের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের হামলার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন কোন হিন্দু ধর্মের মানুষ এই কাজ করবেন না।কারন এই পূজা আমাদের সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।কুরআন শরিফ যেমনি মুসলমানদের কাছে পবিত্র ও মহা মুল্যবান  ঠিক তেমনি  সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে শারদীয় দূর্গাপূজার গুরুত্ব অপরিসীম এবং সবচেয়ে বড় পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ।তাই অন্য ধর্মের গ্রন্থ নিয়ে পূজা কে নস্যাৎ করার চিন্তা কখনো হিন্দু সম্প্রদায় করবেনা ।এটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।