সন্ধ্যা নামতেই জাবিতে শোনা যায় শিয়ালের হুক্কাহুয়া

 প্রকাশ: ০২ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন   |   মিডিয়া কর্নার



গ্রামীণ পরিবেশে টিকে থাকা একমাত্র বন্যপ্রাণী শিয়াল। এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামগুলোতে শিয়ালের দেখা মেলে। যেভাবে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে, তাতে এখন শিয়ালও দুর্লভ প্রাণীর কাতারে চলে যাচ্ছে। তবে এদিক থেকে ব্যতিক্রম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার সবুজ পরিবেশে সন্ধ্যা নামলেই যেকেউ শুনতে পাবে শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক।

ক্যাম্পাসে বিশেষ করে শীতের মৌসুমে রাত নামতেই যেন দল বেধে ডাকার প্রতিযোগিতায় নামে শিয়ালেরা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দিনের বেলাতেই দেখা দিতে পারে এই শিয়াল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে, পরিসংখ্যান ভবনের পেছনে, রসায়ন ভবনের দক্ষিণ পাশে, মীর মশাররফ হোসেন হলের পাশে ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনের জঙ্গলে দেখা মেলে শিয়ালের। করোনার দীর্ঘ বন্ধে ক্যাম্পাসে ফের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে আসায় হরহামেশাই দেখা মিলছে শিয়াল, গুঁইসাপের মতো প্রাণীর।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে পাতি শিয়াল ও খেঁক শিয়াল নামে দুই ধরনের শিয়াল দেখা যায়। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাতি শিয়ালের দেখা মেলে। বাংলাদেশের প্রায় সব স্থানেই এ জাতের শিয়াল দেখা যায়। পাতি শিয়াল সাধারণত বনের গভীরে গর্ত করে বসবাস করে। মাঝে মাঝে খাবারের সন্ধানে বের হয়। আবার ফিরে যায় গর্তে।

এ জাতের শিয়ালের প্রধান খাবার ইঁদুর। এতে একদিকে যেমন কৃষকের উপকার হয়, তেমনি এটি রক্ষা করে প্রকৃতির ভারসাম্যও। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা খেয়ে আমাদের পরিবেশকে পরিচ্ছন্নও রাখতে সহায়তা করে।

শিয়াল চালাক-চতুর হলেও কিছুটা ভীতু স্বভাবের। এদের ঘ্রাণশক্তি প্রবল। লেজের নিচের দিকের গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রুদের তাড়ায়। এরা দ্রুতগতির প্রাণী, কুকুরের চেয়েও দ্রুত দৌঁড়ায়। শিয়াল মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাস করে। জাবি ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড় বা গর্তে লুকিয়ে থাকে এরা। সন্ধ্যার পর শিকারে বের হয়। সন্ধ্যারাতে উচ্চস্বরে হুক্কাহুয়া স্বরে ডাকে।

এরা একাকী, জোড়ায় বা দলে থাকে। অনেক সময় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে দল বেঁধে দিনের বেলায়ও বের হয়। পাতি শিয়াল দেখতে অনেকটা হলদে লাল, কালচে ভাব। নাকের অগ্রভাগ কালো। এর দৈর্ঘ্য ১০০ সেন্টিমিটার।

শিয়াল মূলত মাংশাসি হলেও এরা সর্বভুক প্রাণী। ইঁদুর, পাখি, হাঁস-মুরগি, গুঁইসাপ, সাপ, কাঁকড়া, মাছ ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। শকুন, চিল বা অন্যান্য শিকারি প্রাণীর শিকারের উচ্ছিষ্টাংশ, মরা-পচা প্রাণী, ডাস্টবিনের ময়লা খেয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে অনেক আগে থেকেই শিয়াল দেখা যায়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্যেরই একটি নিদর্শন। করোনায় বন-জঙ্গলে ভারসাম্য ফিরে এসেছে। এসব প্রাণীদের রক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে।