ফরিদপুর-৪ এর এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এর কাছে খোলা চিঠি

 প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন   |   মিডিয়া কর্নার




আওয়ামীলীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় করোনার মত মহামারীর ঢেউ কাঁটিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন রুপে রূপান্তরিত করেছেন ১৬ কোটি মানুষের অভিভাবক হিসেবে।

আওয়ামীলীগ সরকারের সেই উন্নয়নের রাজনীতিতে আপনি’সহ দেশের সকল সংসদ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন নিজ নিজ সংসদীয় আসনের সাধারণ মানুষের মুখে বুকভরা হাঁসি ফোঁটাতে। তার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। কারন শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে।

বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন এলাকায় আপনি সমাবেশ-সেমিনার ও নাগরিক সমাজের কাছে প্রায় বলে থাকেন-আমি (আপনি) বিভিন্ন যায়গায় সফর করতে গিয়ে যখন পরিচয় দেই ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য তখনই আমাকে ভিন্নভাবে তারা সম্মান-ইজ্জত দিয়ে থাকেন। আপনার সেই সম্মানে নির্বাচনী এলাকার সকলেই সম্মানিত হয়ে উঠি আপনার সম্মানে।

ধন্যবাদ মাননীয় সংসদ
সদস্য ফরিদপুর-৪।

আপনার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে নিয়ে  নিজের থেকে অনেক গর্ববোধ করেন। ভাঙ্গার জনগণ আপনাকে ভালবাসেন আপনিও উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে জনগণের অভিভাবক হিসেবে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুরের ভাঙ্গার সংসদ সদস্য (নিক্সন চৌধুরী) হওয়ায় সর্বইস্তরের জনগণের কাছে আপনি ৯৯% শ্রদ্ধেয় নেতা।

মাননীয় সংসদ সদস্য
ভাঙ্গা উপজেলার সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে
আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মূল বক্তব্য———ভাঙ্গা উপজেলার বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মান কোন গতিতে হাঁটছে! অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে এবং বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীদের কাছে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিশেষত ভাঙ্গা পৌরসভার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ছায়াতলের চাপায় পড়ে আজ অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম উদবিগ্ন। ভাঙ্গায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান আজ ভঙ্গুরে পরিণতি হওয়ার পথে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অবস্থান গলাবাজিতে পরিপূর্ণ হলেও বাস্তবে দেখা দিয়েছে সার শূন্য! বিষয়টি দেখভাল করার জন্য আমাদের আবেদন আপনার অনুকলে রইল।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

১১ ডিসেম্বর ২০২১ বার্ষিক পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে ভাঙ্গার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় “ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’এ। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল শিটে শুধু ভুলে ভরা। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীদের ফলাফল শিটে কোন নাম্বার প্রদান করা হয় নি। একের পর এক শিক্ষার্থীদের এই নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে এবং এখনও হতে হচ্ছে।

শুধু তাই নয়!

অনেক শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের কাছে কি জবাব দিবে——-এমন ভয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় কান্নায় কেউ কেউ ভেঙ্গে পড়েছে। আবার যারা একটু মাথা তুলা তাদেরকে ডেকে বিদ্যালয় থেকে হাতে কলমে ফলাফল শিটে নতুন করে মার্ক (নাম্বার) বসিয়ে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন চিত্র অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের এ কেমন উদাসিনতা প্রশ্ন রইল আপনার কাছে? থলে শিক্ষার মান ব্যবস্থা আর শিক্ষকদের ভূমিকা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে আপনার ভাঙ্গায়!

অবশেষে ভুলে ভরা ফলাফল হাতে পেয়ে একের পর একের এক শিক্ষার্থীদের একই হেনস্তার শিকার হওয়ায় বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের নজরে আসে বিষয়টি। বিদ্যালয়ের প্রধান থেকে শুরু করে সহকারী প্রধান ও ফলাফল তৈরির দায়িত্বরত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ নিয়ে বিবিধ ধরনের লেখা ভেসে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট থেকে।

আবার, বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করছেন-কোন অভিভাবক যদি ঘটনার প্রতিবাদ জানায় তা হলে ফের তার সন্তানের দিকে শিক্ষকেরা বাঁকাদৃষ্টি রাখবেন সেই ভয়ে অনেক অভিভাবক প্রতিবাদ না জানিয়ে সন্তানের ফলাফল হাতে পেয়ে চুপটি মেরে বসে পড়েন। অভিভাবক মহলের অভিমত বিদ্যালয় থেকে সেই বার্তাও মৌখিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে অভিভাবকদের কানে।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

ভাঙ্গা সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রসঙ্গে এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়! বিগত দিনের (বেসরকারি থাকা অবস্থায়) ইতিহাস পঞ্জিকা খতিয়ে দেখলে এর চেয়ে ভয়াবহ চিত্র আপনার সামনে উঠে আসবে। ভাঙ্গার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন-প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী (১৮৮৯) একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয়েছে। জনগণ এতে আনন্দিত। কিন্ত নীতিগত কোন পরিবর্তন না হয়ে উপরন্ত সেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা চিত্র বার বার সবার সামনে রহস্যজনকভাবে ফুটে উঠছে। আমরা আশাকরি বিষয়টি আপনার দৃষ্টিপাতে থাকবে।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরিক্ষার চলমান ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের থেকে যে গুরুত্বর অভিযোগ উঠে এসেছে তার মধ্যে ক্লাস শিক্ষক খাতায় নাম্বার দিলেও চূড়ান্ত ফলাফলের তালিকায় (শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফলাফল সিটে) শুন্য বসিয়ে রাখা হয়েছে। অভিভাবকরা যখন প্রতিবাদ করেছেন তখন ক্লাস শিক্ষককে ডেকে এনে ফের সংশোধন করার সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণীর ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট বা তাদের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে (বাসভবনে পরিচালিত) না পড়ার শাস্তি হিসেবে এসাইনমেনট নাম্বার পর্যন্ত সঠিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল সিটে দেওয়া হয় নি। শিক্ষকদের ইচ্ছে মত নাম্বার বসিয়ে/ না বসিয়ে এমন হীন কাজটি শিক্ষার্থীদের সাথে করা হয়েছে। অতএব স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে রহস্যজনক কারনে হেন কাজটি সম্পন্ন করা হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবক মহল।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করার ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ভূমিকা নিয়ে ভাঙ্গার জনমনে বিবিধ প্রশ্ন উঠেছে। ভাঙ্গা মাধ্যমিক অফিসের কর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিদ্যালয়গুলতে ভিজিট করার নামে উপঢৌকন গ্রহনে জুড়ি মেলা ভার! এ বিষয়টি উপজেলা প্রশানের অজানা নয়। ইউপি নির্বাচনে তাদের অনৈতিক বিষয়টি সবার নজরে এসেছে।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

যদিও ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক ফলাফলের ভুল হওয়ায় বিষয়ে দাবী করে আসছেন কম্পিউটর কাজের বেলায় ভুল হয়ে থাকতে পারে। আমরা পুনঃ মূল্যায়ন করিব। কোন শিক্ষকের ভুলের দায় বিদ্যালয় নিবে না।

প্রতি উত্তরে অভিভাবকেরা বলেছেন সেখানে একটি দুটি ভুল হতে পারে কিন্ত বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীদের বেলায় একই ভুল করার বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন অভিভাবক মহল। কারন বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতানৈক্যদের অনেকেই কর্মরত আছেন। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রয়েছে শিক্ষকদের গ্রুপিং।  প্রধান শিক্ষক বনাম সহকারী শিক্ষক। সেখানে সহকারী শিক্ষদের একটি অংশ প্রধান শিক্ষকের সাথে বৈরি আচরণ করে আসছেন বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হওয়ার আগের থেকেই। প্রধান শিক্ষক গ্রুপকে বেকায়দায় ফেলে দেওয়ার জন্য না প্রধানশিক্ষক গ্রুপ থেকে অন্যদের ফাঁসাতে কাজ করেছে এমন বিষয়টি সবার নজরে উঠে এসেছে।

স্থানীয় জনগণের দাবী যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষে করোনা মহামারী শেষ হতে না হতেই এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করেছেন–অথচ একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যলয় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষালয়ে প্রবেশধারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল নাম্বারের ক্ষেত্রে চরম উদাসীনাতায় এমন হেন আচরণ রহস্য এবং ঘটনার পিছনে সরকারকে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন বা বিব্রত করার কোন অপচেষ্টায় রপ্ত কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখার জন্য ভাঙ্গার সচেতন মহল মাননীয় সংসদ সদস্য ফরিদপুর-৪ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কারন আপনি ভাঙ্গার মানুষের অভিভাবক।

মাননীয় সংসদ সদস্য,

ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি দেরশতাধিক বছরের পুরাতন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশ বিভাগের পূর্বে এবং বিগত দিনে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুনাম অর্জন হিসেবে বামন দাস (নাসার বৈজ্ঞানিক), আতিকুর রহমান ভারত বাংলার মধ্যে (First stand) করেছিলেন এই ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তার গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গার নুরপুর মিয়া বাড়ি। রাজনৈতিক নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনের স্ত্রী (জয়া দিদি), ভাঙ্গার সন্তান (মিয়া বাড়ি নুরপুর) লেখক ও কলামিস্ট কানাডা প্রবাসী সাদ কামালী সাদী , পায়রা বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ন কল্লোলসহ অসংখ্য মেধাবী গুনীজন ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

১৮৮৯ সালে বাবু কিরণ রায়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করার মধ্যে দিয়ে প্রাচীনতম বিদ্যালয় ভাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা। আজ সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্মানিত হায়দার হোসেন। কালের গর্ভের পরিবর্তনে ইতিহাস থেকে নতুন ইতিহাস জন্ম নিয়েছে।

আজ শিক্ষারমান ব্যবস্থায় এসেছে আমুল পরিবর্তন। শুধু ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। আমরা চাই সেই ইতিহাস অক্ষুণ্ণ ব্জায় থাকুক আমাদের এলাকার কালের সাক্ষি ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি।

সকল শিক্ষকরা সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করে একজন বামন দাস, আতিকুর রহমান, সাদ কামালী সৃষ্টি করে সমাজের বুকে ছেড়ে দিবেন। মনে রাখা দরকার আজো দেশ পেড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছেন বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। আমার লেখা কাউকে আহূত করার জন্য নয়। একদিন আমি আমার মত অনেকেই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। চোখের সামনে প্রাচীনতম আমাদের এই বিদ্যালয়ের মান মর্যাদা ও সুনাম বিনষ্ট হতে দেখে বিষয়টি ফরিদপুর-৪ আসনের অভিভাবক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন-এমপির দৃষ্টি কামনা করা।

আমার লেখায় কোন ভুল থাকলে মার্জনীয় দৃষ্টিতে দেখবেন। ভাল থাকুক সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের আদর্শে অনুপ্রাণিতরা বিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ফলাফল অর্জনের মধ্যে দিয়ে এলাকায় ও নিজের পরিবারের মুখউজ্জ্বল করার প্রত্যাশা রেখে বিদায় নিচ্ছি।

( মামুনুর রশিদ, সংবাদকর্মী)