অবৈধভাবে জ্যামার-নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল তাদের: র‌্যাব

 প্রকাশ: ১৫ মে ২০২২, ০৪:০৪ অপরাহ্ন   |   পুলিশ প্রশাসন


গত দুই বছরে দেশে দুই শতাধিক অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করেছে একটি চক্র। এই চক্রের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।


মূলত দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নাশকতার পরিকল্পনায় এসব জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্যামার, রিপিটার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার জব্দসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

রোববার (১৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

এর আগে, রোববার (১৫ মে) প্রথম প্রহরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে  বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টারসহ বিক্রয়কারী মো. আবু নোমান (২৮) ও সোহেল রানাকে (৩৭) গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। অভিযানকালে র‌্যাবের সঙ্গে বিটিআরসির প্রতিনিধি দলও ছিল। অভিযানে তাদের কাছ থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার ৪টি, জ্যামার এন্টিনা ২৪টি, এসি অ্যাডাপ্টর ৪টি, পাওয়ার ক্যাবেল ৩টি, মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার ৩টি, বুস্টারের আউটডোর এন্টিনা ৯টি, ইনডোর এন্টিনা ২৬টি, ক্যাবল ৩৭টি, ল্যাপটপ ১টি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ জানতে পারে যে, অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয়কারী চক্রের কতিপয় সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বিনা অনুমতিতে অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয় করে আসছে। অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয়কারী ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জানায়, অবৈধভাবে এসব জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয় করতেন তারা। গ্রেফতার নোমানের আইটি স্টল.কম.বিডি নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। অপর আসামি সোহেল রানার সোআইএম বিডি নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা আইপি ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টারসহ এর যন্ত্রাংশ লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে বিক্রি করতেন।

লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার টুজি, থ্রিজি এবং ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। তাদের ক্রেতা বিভিন্ন বহুতল ভবনের বাসিন্দা, মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধী চক্রও উচ্চ মূল্যে এসব অবৈধ ডিভাইস কিনতো।

বিক্রি ও আমদানি নিষিদ্ধ এসব পণ্য কীভাবে দেশে আসছে- জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বৈধ আমদানিকারকদের মাধ্যমে অধিক পরিবহন মূল্য পরিশোধ করে বৈধ মালামালের আড়ালে তারা এসব অবৈধ যন্ত্রাংশ আমদানি করছে। এরপর চাহিদা মোতাবেক অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতেন চক্রটি।

তিনি বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে দুটি বিষয়ে র‌্যাব নিশ্চিত হয়েছে। তবে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা সে ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে র‌্যাব ধারণা করছে, অবশ্যই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। সেই সঙ্গে নাশকতার ষড়যন্ত্রও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এসব অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে অধিক মুনাফা লাভের আশায়ও তারা এসব বিক্রি করতেন। আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এসব অবৈধ ডিভাইসের ক্রেতা কারা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই বছরে দুই শতাধিক জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয় করা হয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। আমরা বিস্তারিত তালিকা পাইনি। তবে ওই তালিকায় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম পেয়েছি। খুব শিগগিরই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া এসব যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। গ্রেফতার সোহেল রানার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও খুলনা জেলায় দুটি চেক জালিয়াতির মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারকৃতরা অবৈধভাবে এসব যন্ত্রাংশ মজুদ, সরবরাহ, বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২১ (সংশোধনী ২০১০) এর লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।