আইপিএলকে ‘না’ বলা তাসকিনই ম্যাচ ও সিরিজসেরা

 প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২, ১২:২৫ অপরাহ্ন   |   সফলতার গল্প



দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদেরকেই হারিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওয়ানডেতে অঘোষিত ফাইনালে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে তাসকিন আহমেদ।


তার অগ্নিঝরা বোলিংয়ের কারণে অল্প রানেই স্বাগতিকদের গুটিয়ে দিয়ে সহজে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাসকিনই তাই সিরিজসেরা ও ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন।
সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে বুধবার (২৩ মার্চ) সেঞ্চুরিয়নে ৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট শিকার করেন তাসকিন। যার শুরুটা হয় কাইল ভেরেইনাকে শিকার করার মাধ্যমে। এরপর তিনি একে একে সাজঘরে পাঠান জানেমান মালান, ডোয়াইন প্রেটোরিয়াস, ডেভিড মিলার ও কাগিসো রাবাদাকে। বিধ্বংসী বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দেন ১৫৪ রানেই।

সিরিজজুড়ে তাসকিন আহমেদ নিজের যোগ্যতার জানান দিয়েছেন। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে মিডিয়ার সামনে যিনি আফসোস করেছেন। সেবারের বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্ম করেও যার যায়গা হয়নি স্কোয়াডে। সেই তাসকিনই দলে জায়গা করার পর এক এক করে নিজের যোগ্যতার জানান দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে। এবং সবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের তিন ম্যাচে ২৩ ওভার বোলিং করে ১১২ রান দিয়ে ৮টি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি এই ফাস্ট বোলার। এর পুরস্কারই পেলেন আইপিএলকে ‘না’ বলে দেওয়া এই পেসার।

শেষ ম্যাচে বেশ কয়েকটি কীর্তিও গড়েন তাসকিন। এদিন ২০১২ সালে জানুয়ারিতে পার্লেতে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেয়া লাসিথ মালিঙ্গাকে চাপিয়ে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিজের করে নেন বাংলাদেশি এই পেসার। তাছাড়া দেশের হয়ে পেস-স্পিন মিলিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫ উইকেট শিকারি প্রথম বোলার তাসকিন।  

শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়, বরং দেশের বাইরে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি এমনিতেও বিরল বাংলাদেশের পেসারদের জন্য। তাসকিনের আগে এমন পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশি মাত্র তিনজন পেসার। যেখানে প্রথমে রয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি এই কীর্তি গড়েন। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়ায়োতে ৩০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে দুইয়ে আছেন জিয়াউর রহমান। এরপর ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে আইরিশদের বিপক্ষে ৫৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় আসেন আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি।