সালাউদ্দিনসহ বাফুফের কর্তাদের দুর্নীতির খোঁজে দুদক

 প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩, ০১:৩৬ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা


সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা ‍রুল তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।


একইসঙ্গে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ফিফা) দেওয়া অর্থের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল রেখেছেন। তবে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ বাফুফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলবে। আর এই অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী।


আদালতে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।


বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও আবু নাঈম সোহাগের বিরুদ্ধে ফিফা ও বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া অর্থ পাচার, জালিয়াতি, আত্মসাতের অনুসন্ধান চেয়ে ‘ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমি’র পক্ষে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।


ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৫ মে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে চার মাসের মধ্যে এ অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুলে বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও আবু নাঈম সোহাগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাতের অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা বা নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।


অনুসন্ধানের আদেশের বিরুদ্ধে বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৫ জুন ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশ দেন চেম্বার আদালত। তবে শুনানির আগে আবেদন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন কাজী সালাউদ্দিন।


চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন শুনানির জন্য ৯ জুলাই দিন রেখেছিলেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে ফিফার দেওয়া অর্থের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছেন চেম্বার আদালত। আর বাফুফেকে দেওয়া সরকারের অর্থের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী। এর ধারাবাহিকতায় আবেদনটি রোববার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে।


পরে মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, ফিফার তদন্তে কোনো দুর্নীতি পাওয়া যায়নি। ব্যাপারটি অলরেডি ক্লোজ। ফিফা যেসব দেশকে ফান্ড দেয়, সেসব দেশে তাদের একমাত্র অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের ওপর চেম্বার জজ স্থিতাবস্থা দিয়েছিলেন। সেই স্থিতাবস্থার মেয়াদ আজকে বৃদ্ধি করেছেন। আর তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে মূল মামলা নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।


আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, ফিফার দেওয়া অর্থ নিয়ে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন তার ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ বৃদ্ধি করেছেন। ফলে ফিফার অর্থ নিয়ে অনুসন্ধান চলবে না। আর ফিফাকে সরকারের দেওয়া অর্থ নিয়ে অনিয়মের অনুসন্ধান করছে দুদক।


এদিকে, গত ১৪ এপ্রিল আর্থিক অনিয়ম এবং কাগজ জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দুই বছরের জন্য সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। সোহাগের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ফিফার দেওয়া অর্থ বাফুফের খরচ দেখাতে তিনি ভুল ডকুমেন্ট দেখিয়েছেন। ফিফা শুনানি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই এ শাস্তি দিয়েছে বলে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।


সোহাগের বিরুদ্ধে সাধারণ আর্টিকেল ১৫ (দায়িত্বে অবহেলা), ১৫ (সততা) ও ২৪ (মিথ্যা তথ্য দেওয়া) ভঙ্গের অভিযোগ দেখিয়েছে তারা। এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে আবু নাঈম সোহাগকেও। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাফুফে ও এএফসিতে। এরপর ১৭ এপ্রিল ইমরান হোসেন তুষারকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে সোহাগকে আজীবন নিষিদ্ধ করে বাফুফে। ওইদিন জরুরি সভা শেষে এই তথ্য জানায় দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।


এরপর গত ৩ মে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন। পরে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তার রিটের বিবাদীরা হলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদকের চেয়ারম্যান, বিএফআইইউ প্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বাফুফের কর্তা-ব্যক্তিরা।