টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব আসরে খেলেছেন যে ৫ ক্রিকেটার

 প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১ অপরাহ্ন   |   খেলাধুলা



রোববার (১৭ অক্টোবর) পর্দা উঠছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের। এবার আয়োজক ভারত হলেও করোনা মহামারির কারণে আসরের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।  
এবারের আসরে এমন ৫ জন ক্রিকেট কিংবদন্তি খেলবেন, যারা এর আগের ৬ আসরেই অংশ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ ২০০৭ (অভিষেক) বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সবগুলো আসরেই খেলেছেন তারা। অবশ্য এবারই হয়তো এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপেই হয়তো তাদের শেষবারের মতো দেখা যাবে। আর সেই ৫ ক্রিকেটারকে নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

১. ক্রিস গেইল
জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান গেইল ক্রিকেটের তিন ঘরানাতেই অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়ে সর্বাধিকবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ব্যাটিং দানব টেস্টে তিন শতক, একদিনের আন্তর্জাতিকে দুই শতক এবং টি-২০ তে শতক হাঁকানো একমাত্র ব্যাটসম্যান।  

২০২১ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ক্রিস গেইলের ৭ম আসর, এর আগের ৬ আসরে খেলছেন তিনি। টি-২০ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ২৮টি এবং ২৬ ইনিংসে ১৪৭ স্ট্রইক রেটে ৪০ গড়ে করেছেন ৯২০ রান। সাতটি অর্ধশতকের পাশাপাশি দুইটি শতকও হাঁকিয়েছেন। টি-২০ বিশ্বকাপে তার সর্ব্বোচ ইনিংস ১১৭। এছাড়াও তিনি বল হাতে ৭.৪১ ইকোনমি রেটে ইউকেট নিয়েছেন ৯টি এবং তার সেরা বোলিং ফিগার ১৭ রান দিয়ে ২ ইউকেট। ক্রিকেট ভক্তরা অবশ্যই আরও একবার ক্রিস গেইলের দানবীয় পারফরম্যান্স দেখতে মুখিয়ে আছেন।

২. সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতের সবচেয়ে আলোচিত ও বিখ্যাত নাম সাকিব আল হাসান। যিনি তার প্রতিভার আলোয় বাংলাদেশের নাম-কে নিয়ে গেছেন বিশ্বের দরবারে, অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত সাকিব একজন বামহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেট ও ১ হাজার রানের রেকর্ডটি সাকিবের দখলে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অন্যতম আস্থার জায়গায় থাকবেন তিনি। গেইলের মতো তিনিও বিশ্বকাপের সব আসরের অংশ নিয়েছিলেন।  

সাকিব টি-২০ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ২৫টি এবং ২৪ ইনিংসে ১২৯ স্ট্রইক রেটে ২৮ গড়ে রান করেছেন ৫৬৭। তিনটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। বিশ্বকাপ টি-২০তে তার সর্ব্বোচ ইনিংস ৮৪ রানের। এছাড়াও তিনি বল হাতে ৬.৬৫ ইকোনমিতে উইকেট নিয়েছেন ৩০টি এবং তার সেরা বোলিং ফিগার ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট। এই বিশ্বকাপেও সাকিবের পারফরম্যান্স ও সাফল্যের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো বাংলাদেশ।  

৩. রোহিত শর্মা 
ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটিং অর্ডারে অন্যতম আস্থার প্রতীক রোহিত শর্মা। মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় এই ক্রিকেটার নরম মেজাজে চমকপ্রদ ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে সকলের নজর কেড়েছেন।

এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে রোহিতের ৭ম আসর, এর আগের ৬ আসরে উপস্থিত ছিলেন রোহিত। তিনি টি-২০ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ২৮টি এবং ২৫ ইনিংসে ১২৭ স্ট্রইক রেটে ৩৯ গড়ে রান করেছেন ৬৭৩। বিশ্বকাপ টি-২০তে রোহিত নিজের নামের পাশে লিখেছেন ছয়টি অর্ধশতক এবং তার সর্ব্বোচ ইনিংস ৭৯*। এই বিশ্বকাপে কি রোহিতের ব্যাটে ভারতের ঘরে উঠবে দ্বিতীয় শিরোপা?

৪. ডোয়াইন ব্র্যাভো  
ডোয়াইন ব্র্যাভো ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সান্তা ক্রুজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার ও গায়ক। তাকে বলা হয় প্রকৃত অল-রাউন্ডার। তিনি একিসঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার। তিনি এর আগের ছয় আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলে দুইবার শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন।  

ব্র্যাভো টি-২০ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ২৯টি এবং ২৫ ইনিংসে ১২৯ স্ট্রইক রেটে ২৪ গড়ে রান করেছেন ৫০৪। দুইটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। বিশ্বকাপ টি-২০তে তার সর্ব্বোচ ইনিংস ৬৬*। এছাড়াও তিনি বল হাতে ৮.৮৮ ইকোনমিতে উইকেট নিয়েছেন ২ টি এবং তার সেরা বোলিং ফিগার ৩৮ রান দিয়ে ৪ ইউকেট।  
 
৫. মুশফিকুর রহিম 
আগের ছয় আসরেই খেলা আরেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। একসময় তিনি তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। টেস্ট এবং টি-২০ ক্রিকেটের কিপিং গ্লাভস তুলে রাখলেও ওডিআইতে কিপিং করে যাচ্ছেন। মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। মুশফিকুরের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের জন্য মিডিয়াপাড়ায় তার নাম ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।  

মুশফিক এর আগের সবগুলো আসরে বাংলাদেশের হয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন । এবার   হতে যাচ্ছে তার ৭ম আসর। তিনি টি-২০ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ২৫ ম্যাচের ২০ ইনিংসে ১০৪ স্ট্রইক রেটে ১৬.১৩ গড়ে রান করেছেন ২৫৮। তার সর্ব্বোচ ইনিংস ৪৭ রানের। এছাড়াও উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন ১০টি এবং স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ৯ জন ব্যাটারকে সাঁজঘরে ফিরিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে মুশফিক নিজের সেরা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভক্তদের মন জয় করবেন এমনটাই আশা টাইগারভক্তদের।