৩৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

 প্রকাশ: ২৭ মে ২০২২, ০৬:৫০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


 মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে বিজিবির জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।


 
শুক্রবার (২৭ মে) বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দফতরের প্রশিক্ষণ মাঠে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ’ অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক রোধে কঠোর হতে হবে এবং অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই।  

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হচ্ছে চ্যালেঞ্জিং। মিয়ানমার সীমান্ত রয়েছে ২৭৪ কিলোমিটার। সীমান্তে কাজ করা অনেক দুরূহ ব্যাপার। তাই বিজিবিতে হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সামাজিক ব্যাধি। এটি নিজের জীবনের সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দুর্বার গতিতে চলছে। মাদক রোধ সম্ভব না হলে দেশের সেই উন্নয়ন যাত্রা থমকে যেতে পারে।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সে নীতিতে কাজ করছে সরকার। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এতে পরিবার ও একটি দেশ ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হলে বাকিরাও সতর্ক হবে।  

তিনি আরও বলেন, পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। মাদক নির্মূলে কঠোর হয়ে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শপথ নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজে যেন মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী স্থান না পায়। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আসাদুজ্জামান খানের মতে, মাদক নির্মূলেও সফল হতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, আমরা সফল হব। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হব। এজন্য একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্ম পথ হারিয়ে ফেলবে।

বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নাজম-উস সাকিব তার বক্তব্যে বলেন, অনুষ্ঠানে ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৭ পিস ইয়াবা, ২৩.৭৫১৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ হাজার ৩৪৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ৬ হাজার ৭৬৭ ক্যান বিয়ার, ২০৬ লিটার বাংলা মদ, ৬ কেজি গাঁজা, জুলিয়াম ট্যাবলেট ধ্বংস করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিজিবি কক্সবাজারের রিজিয়নের আওয়াতায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক জব্দ করা মাদকের হিসাবও দেওয়া হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. ফখরুল আহসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার রেজোয়ান হায়াত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চেকপোস্টের কার্যক্রমের ওপর ডেমো ও রিজিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, গত ৩ বছরে ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টর। তারা ৩ বছরে মোট ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আটক ১ হাজার ৯৭৯ জন আসামিসহ ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৩০ পিস ইয়াবা, ২৭ হাজার ৪৪৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ হাজার ৩০৫ ক্যান বিভিন্ন প্রকার বিয়ার, ৯৮ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ১৩৭ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮ লাখ ৬ হাজার ৮০০ লিটার বাংলা মদ, ২২ হাজার ৯৯৫ কেজি গাঁজা, ৩ হাজার ১৫০ কেজি আফিম মামলার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে