একমি নিয়ে এলো ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা অ্যাপ হেলথ্এইড

 প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ



ডায়াবেটিস সামিট ২০২১ উপলক্ষ্যে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএডিএএস) একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। বিশ্ব ডায়াবেটিস কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডায়াবেটিস সামিট অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ফার্মাসিউটিক্যালস একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা অ্যাপ হেলথ্এইড উদ্বোধন করে। যার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীসহ সকলেই প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই চিকিৎসা ও শরীরের অবস্থা জানতে পারবে। তাছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবে।

বৈজ্ঞানিক এই সেমিনারের ডায়াবেটোলজি এবং এন্ডোক্রিনোলজির ক্ষেত্রে প্রখ্যাত বক্তারা সাম্প্রতিক আপডেটের উপর উপস্থাপনা তুলে ধরেন। ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডিসিইসি-এর ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইন ডিজিজ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইমেরিটাস হাজেরা মাহতাব-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড-এর মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি–এর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মো. এ কে আজাদ খান। সেমিনারের বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারডেম একাডেমীর পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফারুক পাঠান, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. এস এম আশরাফুজ্জামান, বারডেমের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফিরোজ আমিন, বারডেমের ইউনিট হেড ও সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিয়া আফসানা।

বিআইএইচএস-এর সহযোগী অধ্যাপক ও পরামর্শক ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রিনোলজি ডা. নাজমুল কবীর কোরেশী-এর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড-এর, সেলস ও ডিস্ট্রিভিশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোঃ ফেরদৌস খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সেমিনারে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা এবং ডায়াবেটিসকে পরাজিত করার বিষয়ে তাদের মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করেন।

সেমিনারের বারডেম একাডেমীর পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফারুক পাঠান বলেন, “এক্সেস টু ডায়াবেটিস কেয়ার”- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আমরা এবারের ডায়াবেটিস দিবসে সচেতনতা শুরু করেছি। দেখা যায়, অসচেতনতার কারণে পুরো বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়। একই সাথে আমাদের দেশের রোগীর সংখ্যাও ভয়াবহ। আমরা স্বল্প মূল্যে এই রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করেছি। সেই সাথে আশা করবো আমাদের সাথে দেশের সকল ঔষধ কোম্পানি গুলো এগিয়ে আসবে।

ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারি রোগ। এই রোগের অত্যধিক বিস্তারের কারণেই সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিটি পরিবারকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। এ বিষয়ে সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক, ধর্মগুরু, সমাজকর্মী, সাংবাদিকসহ সবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী প্রতি পাঁচজনের মাঝে একজন পরিবারের সদস্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে অবহিত। তাছাড়া বিশ্বে এখনো ৭৫ শতাংশের বেশি পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিসের তীব্রতা, নিয়ন্ত্রণ ও তার ভূমিকা নিয়ে সচেতন করা বাকি। একমি‘র ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা হেলথ্এইড অ্যাপ–এর নানা তথ্য, গৃহীত কৌশল ও সমাধানগুলোর সঠিক চিকিত্সা এবং জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যাকে কমিয়ে স্বভাবিক জীবনের দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চালু করা ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা হেলথ্এইড অ্যাপ-এর মাধ্যমে অনেক খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়া যাবে। এর ফলে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই যেকোন চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন রোগীরা। ইতোমধ্যে বিশ্বমানের এবং দেশের শীর্ষ মানের ওরাল অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধ তৈরির জন্য পুরো বিশ্বেই সুনাম অর্জন করেছে একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড৷

সেমিনারের প্রধান অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি–এর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মো. এ কে আজাদ খান বলেন, সময়োপযোগী একটি সেমিনার করার জন্য ধন্যবাদ জানাই একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড-কে। আমাদেরকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে এই ডায়াবেটিস সম্পর্কে। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হয়। তবে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্ত না হলেও আমাদের সচেতনতাই রক্ষা করবে। ফলে আমরা সবাই ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন থাকবো।

অনুষ্ঠানে একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড-এর মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন,  “ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন সহজ করতে এবং পরামর্শকারী চিকিত্সকের সাথে একটি সেতু তৈরি করতে আমরা ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী অ্যাপ হেলথ্এইড চালু করতে পেরে গর্বিত। বর্তমান ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে আমরা সবাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত। আমাদের দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি ছাড়া আমরা দৈনন্দিন কার্যকলাপ কল্পনা করতে পারি না। একজন ডায়াবেটিস রোগীকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে লেগে থাকতে হয়, যেমন প্রতিদিনের স্ব-নিরীক্ষণ, সতর্কতার সাথে ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা, রক্তচাপ কমানো। আর এইসব করতে সার্বিক সহায়তা করবে আমাদের ডিজিটাল অ্যাপ। এছাড়াও একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড লাইফ স্টাইল পরিবর্তন, স্ব-নিরীক্ষণ এবং রোগীর ক্ষমতায়নের জন্য সচেতনতা বাড়াতে ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে।”