দৃশ্যমান হলো বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর পিয়ার হেড

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২২, ১১:১৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়



সিরাজগঞ্জ: দৃশ্যমান হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতুর একটি পিয়ার হেড। সেতুর ৫০টি পিয়ারের মধ্যে নির্মাণাধীন রয়েছে ৩২টি।


এরই মধ্যে ৪৮ নম্বর পিয়ার হেড কমপ্লিট হওয়ায় সেটি এখন দৃশ্যমান।  
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি বলেন, ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের এ সেতুটিতে মোট ৫০টি পিয়ার নির্মাণ করা হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে পিয়ারের পাইলিং কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ৩২টি পিয়ারের পাইলিং কাজ শেষের দিকে। শেষ হয়েছে ৪৮ নম্বর পিয়ারের পূর্ণাঙ্গ কাজ। সেতুর পূর্বপ্রান্তে পিয়ার হেড বর্তমানে দৃশ্যমান। বাকি ৩২টির নির্মাণ কাজও চলছে দ্রুতগতিতে।  

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে এ রেলসেতুর ৪০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও করোনার জটিলতার কারণে কয়েক মাস বেশি সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ দিকে এ রেলসেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর দেশের বৃহত্তম রেলসেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জাপান এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে রেলসেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাইকা। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নদীর দুই প্রান্তে দু’টি ভাগে চলছে  সেতুর নির্মাণ কাজ। গত ২৯ এপ্রিল সেতুর ৪৮ নম্বর পিয়ারের প্রথম প্রি-হেড ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে ওপর পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে একটি পিয়ার।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, এ রেলসেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। ডুয়েল গেজের এ সেতু দিয়ে ডাবল লাইনে ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ৬৮টি ট্রেন। ভারত থেকে সরাসরি ঢাকায় ট্রেণে পণ্য পরিবহণ করা যাবে। যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ রেলসেতুটি। অপরদিকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কমাতেও এ সেতু সহায়তা করবে।  

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমার্সিয়াল ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ রেলসেতুটি নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়াও ভারতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। সেতুর ওপর দিয়ে ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক লাইন থাকায় প্রতিদিন ৭০-৮০টি ট্রেন আসা যাওয়া করতে পারবে। সেতুর নির্মাণের পাশাপাশি ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর ডাবল লেন নির্মাণ হলে রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।  

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন হয়। ওই সেতুতে ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগও চালু হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পারাপার হওয়ায় সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।  

আর এ সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা একটি রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।