সারা দেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস : আগস্টেও বড় বন্যার কোনো আভাস নেই

 প্রকাশ: ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়


সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসের আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। তবে পরের ৫ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
গতকাল আবহাওয়া অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


ভারতের উত্তর প্রদেশ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর প্রদেশ ও এর আশপাশের উত্তর পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।


 কয়েক বছর ধরে বড় বন্যা দেখা দিলেও এবার মৌসুমে মাঝামাঝি সময়েও নেই তেমন কোনো আভাস। এটা একদিক থেকে সুখবর হলেও, শঙ্কা উড়িতে দিতে চায় না পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সাধারণত দেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বড় বন্যা হয়। এক্ষেত্রে জুন থেকে আগস্টেই বড় বন্যা বেশি হয়। বাংলাদেশের বন্যার প্রধান কারণ সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোতে অতি বৃষ্টি। এছাড়া চিন, নেপাল, ভুটান থেকে নেমে আসা পানিও দায়ী। চলতি বছর পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে স্বল্পমেয়াদি আকষ্মিক বন্যা ছাড়া তেমন প্লাবন হয়নি। আগস্টেও বড় বন্যার কোনো আভাস নেই। সেপ্টেম্বর কেটে গেলে এবার শঙ্কা কাটবে পুরোটা।

দেশে ২০১৩ সালে ছোট বন্যা হয়েছিল। এরপর প্রতি বছর বড় বন্যা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ ও ১৭ সালে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ২০২০ সালেও তিন দফা বন্যায় দেশে প্রায় অর্ধেক জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রতি বছরই জুন থেকে শুরু করে আগস্ট পর্যন্ত দু’তিন দিন বিরতি দিয়ে বন্যার পানি বেড়েছে। তবে ২০১৭ সালে মে মাসেই বন্যার পানি ঢুকেছিল লোকালয়ে।  চলতি মাসে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়ে গেলে বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিতে পারে। সেটা স্বল্পমেয়াদি হওয়ার আভাস রয়েছে। তবে বড় বন্যার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা, সামনে দু’মাস আছে। এটাও লম্বা সময়। পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে কতক্ষণ। প্রকৃতির গতিবিধি এতো আগে যথাযথভাবে বলা যায় না। কারণ, আগস্টেও বড় বন্যা হওয়ার রেকর্ড আছে।


সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার (মিমি) বৃষ্টি রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। বিশেষ করে চকবাজার, প্রবর্তক, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, গোসাইলডাঙ্গা, শান্তিবাগ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়াসহ নগরের নিচু এলাকায় হাঁটুপানি জমে গেছে।  
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে নগরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশাও ছিল কম। এর ফলে যারা টিকা গ্রহণ, ব্যাংক, তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কাজে গন্তব্যে বেরিয়েছেন তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।  ভোর থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে খাল ও নালা দিয়ে দ্রুত পানি নামতে না পারায় নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 


পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শেখ হারুনুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ দশমিক ৬ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। সমুদ্রবন্দরের জন্য কোনো সতর্কতা সংকেত নেই।  ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।  

উল্লেখ্য,  রেইন গেজের সাহায্যেই বৃষ্টির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। বৃষ্টি মাপার যন্ত্রটি ৫১ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং ২১ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি কাচের বোতল বা জার। বোতলটি রাখা হয় লোহার একটি সিলিন্ডারের মধ্যে। বোতলের মুখে লাগানো থাকে ২১ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি চুঙ্গি বা কাপ। একে বলা হয় ফানেল। ফানেলের মুখটির ব্যাস বোতলের মুখের চেয়ে ১০ গুণ বড় হয়। বৃষ্টি মাপার জন্য এই যন্ত্রটি রাখা হয় সমতল, খোলামেলা এবং নিরাপদ জায়গায়। যাতে গাছপালা, দালানকোঠা বৃষ্টির পানি পড়ায় কোনো বাধার সৃষ্টি করতে না পারে। ফানেলের মুখে বৃষ্টির পানি ছাড়া অন্য পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য ভূমি থেকে ফানেলের মুখটি ৩০ সেন্টিমিটার উঁচুতে স্থাপন করতে হয়। যখন বৃষ্টি হয় তখন বৃষ্টির পানি ফানেলের মুখে পড়ে জমা হয় বোতলে। নির্দিষ্টি সময় অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা পর বেতলে জমা বৃষ্টির পানি দাগকাটা একটি কাচের পাত্রে ঢালা হয়। কাচের পাত্র বা জারের ছোট ছোট দাগগুলো মিলিমিটার বা ইঞ্চির। বৃষ্টি মাপতে হলে বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের উপর থেকে ফানেল এবং বোতলটি উঠিয়ে নিতে হবে। তারপর বোতলে জমা পানি দাগকাটা পরিমাপক পাত্রটিতে আস্তে আস্তে ঢালতে হবে। পাত্রে পানি ঢালার পর পাত্রটি সমান জায়গায় খাড়া করে রাখতে হবে। তারপর পাত্রের গায়ের দাগের সাথে মিলিয়ে মাপ নিতে হবে। অর্থাৎ বৃষ্টির পানি কাচের পাত্রে ঢালার পর পানি যদি পাত্রের ৩ সেন্টিমিটারের ঘর ছোঁয় তাহলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।