শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

 প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২১, ০৯:৪১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়




রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন মানুষ। শত প্রতিকূলতা এড়িয়ে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানীবাসী। করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকি উপেক্ষা করে দূরপাল্লার গণপরিহনসহ নানা পন্থায় গ্রামমুখী হচ্ছেন তারা। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপায়ে মানুষজন বাড়ি যাওয়ার উপায় খুঁজছেন।

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা আগামীকাল বুধবার। পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শেষ সময়ে বাড়িতে যাচ্ছেন মানুষ। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ভিড় ছিল চোখে পড়ারা মতো। আর ট্রেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের গাদাগাদি করে ট্রেনে উঠতে দেখা গেছে।

গতবারের মতো এবারও করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহা উদযাপন হতে যাচ্ছে। সকাল থেকেই রাজধানীর সব রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। দুপুরের পর যেন ভিড় আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে এসব এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি বেশিরভাগ মানুষকে।

গাবতলীতে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, সকাল থেকে এখানে গাড়ির চাপ বেশি। তবে দুপুরের পর চাপ আরও বেড়েছে। গাবতলী টার্মিনালের মুখে কোরবানির পশুর হাট এবং স্বাভাবিক সময়ের থেকে ঢাকা থেকে বের হওয়া বেশি গাড়ি; মূলত এই দুই কারণে এখানে জ্যাম লেগে আছে।

বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তা কিছুটা কমতে থাকে। মহাসড়কে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক মোশারফ হোসেন জানান, টাঙ্গাইল বাইপাস ও করটিয়ার দিকে দুপুরে যানজট ছিল। এরপর থেকে গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতুর দিকে চলতে শুরু করে। এমন চলতে থাকলে সন্ধ্যার আগেই যানজট দূর হতে পারে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি লম্বা লাইনজুড়ে লোকাল বাসের সারি। এ ছাড়া কিছু পণ্যবাহী গাড়ি নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ কখনো তিন গুণ যাত্রী বহন করে আসছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকে মানুষ আসছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। এরপর ঈদকে সামনে রেখে গত ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে গণপরিবহন, মার্কেট ও শপিংমল, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। তবে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার বিধিনিষেধের আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার।

জাতীয় এর আরও খবর: