যে পাঁচ শর্তে চলবে গণপরিবহন

 প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়



ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলমান বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। এসময়ে যানবাহন চলার অনুমতি দেয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন ফাঁকা রাখাসহ পাঁচটি শর্তে গণপরিবহনসহ সব যানবাহনকে চলতে হবে।

বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


বিআরটিএর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত যে পাঁচটি শর্তে মানতে হবে সেগুলো হলো-

১. বাস/মিনিবাসে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলতে হবে। পাশাপাশি আসনের একটি খালি রাখতে হবে। গণপরিবহনে আসন বিন্যাস করতে হবে আড়াআড়িভাবে। অর্থাৎ, কোনো আসনে জানালার পাশে যাত্রী বসলে পেছনের আসনের যাত্রীকে করিডরের পাশের আসনে বসতে হবে।

২. অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে নিতে বিদ্যমান ভাড়ার অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া দিতে হবে যাত্রীদের।

৩. গণপরিবহনের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার/কন্ডাক্টর, চালকের সহকারী ও টিকিট বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিতদের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৪. যাত্রার শুরু ও শেষে বাস-মিনিবাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। জীবাণুনাশক ছিটিয়ে এসব যান জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের হাতব্যাগ ও মালপত্র জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৫. গণপরিবহনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে উবার-পাঠাওয়ের মতো সার্ভিস চালু থাকবে বলে বিআরটিএ থেকে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ঈদের পর ২৩ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৪ দিন গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই আট দিন বন্ধ থাকবে সব ধরনের বেসরকারি অফিস ও কলকারখানা।

বিধিনিষেধে যানবাহন চলাচলের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই সময় সড়কে গণপরিবহন ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানের চলাচল এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

বিধিনিষেধ শিথিল পরবর্তী ১৪ দিনে যেসব সেবা চাল থাকবে সেই বিষয়েও একটি দির্দেশনা দেওয়া হয় প্রজ্ঞাপনে। সেখানে বলা হয়, জরুরি সেবার মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি) পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন। খাদ্যশস্য, খাদ্যদ্রব্য পরিবহন ও বিক্রয়ে নিয়োজিত যান নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড টিকাদান, জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ কাজ; রাজস্ব আদায়–সংক্রান্ত কার্যাবলী; বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবায় নিয়োজিত যানবাহনও চলবে।

একইভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলেও কোনো বাধা থাকবে না। জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। বিদেশগামী যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট/প্রমাণ প্রদর্শন করে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

এছাড়া এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা–সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন। জরুরি সেবার জন্য নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ও প্রমাণাদি সঙ্গে রাখতে হবে।

জাতীয় এর আরও খবর: