কালীগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদে ফলের বাগান, উৎপাদন হচ্ছে বিষমুক্ত শাক-সবজি

 প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৬ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ


নিয়ামত উল্লাহ (কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ): 
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে বাড়ির ছাদে ফলের বাগান ও শাকসবজি চাষ ।  উৎপাদিত শাকসবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন অনেকে। বিষমুক্ত উপায়ে সবজি উৎপাদনে এ ছাদ কৃষিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ। কালীগঞ্জ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির ছাদে টমেটো, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শসা, লালশাক, মরিচ, পুঁইশাক, বেগুন, ঢেঁড়স, রসুন, পেঁয়াজ, শিম ইত্যাদি শাকসবজির চাষ হচ্ছে।  বিশেষ করে পৌরসভার ১১টি ওয়ার্ডে এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ উপজেলার অনেক বাসিন্দা শখের বশে ছাদে সবজি চাষ শুরু করলেও এখন তারা নিয়মিত এ প্রক্রিয়ায় শাকসবজি উৎপাদন করছেন। ধীরে ধীরে আশপাশের এলাকাতেও এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের ছাদে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করে সেখানে গৃহিনী কিংবা কৃষকদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
         বলিদাপাড়া  এলাকার  নুরজাহান বেগম বলেন, অফিসের ছাদের বাগানের কিছু অংশজুড়ে সবজির চাষ করেছি। উৎপাদিত সবজি অফিসের বিভিন্ন সময় ব্যবহার হয়ে থাকে। আর  ছাদ বাগানে স্টোবেরির নার্সারী করা হয়েছিল।  এবার প্রায় ৩ হাজার টাকার স্টোবেরি গাছের চারা বিক্রি করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহায়মেনুল ইসলাম জানান,  যাদের বাড়ির জমি ছাড়া অন্য কোন জমি নেই তারা  ছাদে সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারেন। বাড়তি সময় খরচ না করেই ছাদে টমেটো,গাজর,সীম, বরবটি, লাউ, শশা,মরিচ পেপে, লাল শাক, পুইশাক, রসুন,পিয়াজ, আলু,ধনিয়া,বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা যায়। এছাড়াও  শহর এলাকার ছাদ গুলোতে বিভিন্ন ফলের বাগান বাড়ছে। কেউ কেউ পেয়ারা,আম, লিচু, কাগুজি লেবু, ডালিম, স্টোবেরি কিংবা ড্রাগন ফল চাষ করছে।  তিনি বলেন, বাজারে যে সকল সবজি আছে তাতে অধিকাংশই বিষ। আর ছাদে বিশমুক্ত জৈব পদ্ধতিতে এ চাষ সম্ভব। প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে দেখা গেছে ছাদে উৎপাদিত সবজির স্বাদ অনেক বেশি এবং ফলন ও আশানুরুপ। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের ওপর উপজেলার প্রায় ১০০ জন গৃহিনী ও কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আগামীতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের ওপর আরেকটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, ম‚লত নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই বাড়ির ছাদে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণও নিশ্চিত হচ্ছে।