রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য প্রয়োজন ভোগান্তিহীন সেবা

 প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   সম্পাদকের কথা


(এহছান খান পাঠান):
দুই বছরের বেশিসময় ধরে করোনাক্লান্ত পৃথিবী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। করোনার শুরুতেই বন্ধ হতে থাকে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর বিভিন্ন দেশ থেকে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করে মানুষ। বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত সেই ৭০’র দশক থেকেই। করোনাভাইরাস মহামারিতে যখন অনেক দেশই কর্মী নিয়োগ বন্ধ রাখে তখনও বাংলাদেশ থেকে নতুন করে নয়তো যারা এসেছিলেন তারা আবার বিভিন্ন দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।


জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ১৬৮টি দেশে কাজ নিয়ে যান বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী যায়। যার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। এর পরেই রয়েছে ওমান, কাতার, জর্ডান, সিঙ্গাপুর। সরকারিভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে লোক নিয়োগ বন্ধ থাকলেও ফ্রি ভিসাসহ অন্য উপায়ে দেশটিতে কর্মী যাচ্ছে। আর এক সময় বাহরাইন, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বীপের মতো দেশগুলো বিপুল সংখ্যক লোক নিয়োগ দিলেও এখন অনেক কমে গেছে। তবে সরকারিভাবে বন্ধের তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর রয়েছে মালয়েশিয়ার মতো বড় শ্রমবাজার। এছাড়াও লেবানন, লিবিয়া, সুদান, কুয়েত, সাউথ কোরিয়া, ইতালি, ব্রুনাই, মিশর, মরিশাস, মালয়েশিয়া, জাপান, ইরাক ও যুক্তরাজ্যে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক যান।


বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালে দেশটিতে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৬ জন কর্মী কাজ নিয়ে যান। আর ২০২১ সালে গেছেন ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২২৭ জন। এছাড়া গত দুই মাসে গিয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৮৭ জন। সব মিলিয়ে ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে কাজ নিয়ে গেছেন ৪৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪২ জন কর্মী। যা মোট জনশক্তি রফতানির ৩৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশন নীতিতে যা খুবই প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। বিশ্বের ১১৯তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোনো দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করেছিল ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। ই-পাসপোর্টের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পাসপোর্ট প্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করবে, এমনটাই আশা ছিল। কিন্তু ই-পাসপোর্টের কারিগরি মান বাড়লেও কর্মীদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব। নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি। নানাবিধ জটিলতা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদি আরবের বিমান সেবা নিয়েও বেশ কিছু জটিলতা সারাবছরই দেখা যায়। যা মোটেও কাম্য নয়।

করোনার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় আছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার বেশির ভাগই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি রেমিট্যান্স আয়, আর এরসাথে সরাসরি জড়িত পাসপোর্ট ও বিমান সেবা সংক্রান্ত বিষয়াদি। এইসব দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোগান্তি কমিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্টরা এ দিকে মনোযোগ দেবেন।

(এহছান খান পাঠান, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)