টিকার জন্য নিবন্ধন করে ক্ষুদে বার্তা জন্য অপেক্ষমাণের সংখ্যা বাড়ছে

 প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১, ০৩:০৪ অপরাহ্ন   |   সম্পাদকের কথা






গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি চলমান রেখেছে সরকার। বছরের শুরুতে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছিল। পরে সরকারি প্রচারণা, বিভিন্ন দেশে টিকা প্রয়োগের খবর পাওয়া ও বয়সের সীমা কমানোর কারণে নিবন্ধন বৃদ্ধি পায়। তবে নিবন্ধনের হার বাড়লেও টিকা পাওয়ার হার সে তুলনায় বাড়েনি।  টিকা গ্রহণের জন্য সরকারের নির্দিষ্ট সুরক্ষা ওয়েবসাইট ও অ্যাপে গিয়ে নিবন্ধন করছেন টিকাপ্রত্যাশীরা। পছন্দসই কেন্দ্রে নিবন্ধন করে কেউ টিকা গ্রহণের জন্য ক্ষুদে বার্তা পাচ্ছেন খুবই কম সময়ে আবার কেউ পাচ্ছেন মাস পেরিয়ে। এরপর ক্ষুদে বার্তা পেলেও আবার টিকা গ্রহণের তারিখ পাচ্ছেন দুই সপ্তাহের ব্যবধানে।  টিকা নিয়ে এখনই আরো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে কাজ করা দরকার। যেভাবে মানুষ নিবন্ধন করছেন ও অপেক্ষা করছেন, তাতে এক সময় দালাল চক্র তৈরি হবে। এতে মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে না। নিবন্ধনকৃত কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। এর মধ্যে কোনো কেন্দ্রে বেশি নিবন্ধন হলে তাতে টিকা নেয়ার জন্য ক্ষুদে বার্তা আসতে দেরি হয়। আর যে কেন্দ্রে নিবন্ধন কম, তাতে কম সময় লাগে। নিবন্ধনে নির্দিষ্ট এলাকা উল্লেখ করার পর সক্ষমতা ও নিবন্ধনের সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্র নির্ধারণে সার্ভারের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করলে এ জটিলতা সৃষ্টি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রের দৈনিক সক্ষমতা বিবেচনা না করেই নিবন্ধন উন্মুক্ত রাখায় টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে এমন অনেকে নিবন্ধনের পর টিকা গ্রহণের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন। ফলে বর্তমানে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়লেও টিকা পাওয়ার হার কম। 


সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে। মোট তিন পর্যায়ে পাঁচ ধাপে তাদের টিকার আওতায় আনা হবে। দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৫টি কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম চলমান। এসব কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৪০০টি দল টিকা প্রয়োগের কাজ করছে। প্রতিটি দলে দুজন টিকা প্রয়োগকারী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। প্রতিটি দল দৈনিক ১৫০ জনের শরীরে টিকা প্রয়োগে সক্ষম বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে হিসেবে দৈনিক সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষের শরীরে টিকা প্রয়োগের সক্ষমতা থাকলেও দেশে দৈনিক টিকা দেয়া হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে।





কর্মসূচির শুরুতে চল্লিশোর্ধ্ব ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কয়েক শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিবন্ধনের সুযোগ দেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। পরে বয়সের সীমা কয়েকদফা কমিয়ে এনে তা ২৫-এ আনা হয়। শিগগরিই তা ১৮-তে নামিয়ে আনা হবে বলে পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে স্বাভাবিকভাবেই নিবন্ধন সংখ্যা বাড়লেও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে ভোগান্তি আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্র নির্ধারণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। যাতে ভোগান্তি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।





অন্যদিকে  জাপান থেকে বিকেলে আসছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৮ লাখ টিকা : জাপান থেকে সাত লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকার চালান নিয়ে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে। করোনা প্রতিরোধে জাপান থেকে কোভ্যাক্সের আওতায় উপহার হিসেবে পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে একটি ফ্লাইট ঢাকার পথে রওনা হয়েছে। শনিবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানের এ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই জাপান থেকে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টিকার প্রথম চালান ঢাকায় আসে। এছাড়া আগামী ৪ আগস্ট জাপান থেকে আরও প্রায় ছয় লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমে এলো অক্সিজেনের তৃতীয় চালান:  আজ শনিবার ভোর রাতে ভারত থেকে আমদানি করা অক্সিজেনের তৃতীয় চালান অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেনের ১০টি কন্টেইনারে ২০০ মেট্রিক টন তরল মেডিক্যাল অক্সিজেনের (এলএমও) বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেল স্টেশনে আসে। সকাল থেকে এ অক্সিজেন গ্যাসবাহী লরির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টে নেওয়া হচ্ছে।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লিনডে বাংলাদেশ এ তরল অক্সিজেন আমদানি করছে।  ২৫ জুলাই ও ২৮ জুলাই একই ট্রেনে ২০০ মেট্রিক টন করে অক্সিজেন নিয়ে দেশে আসে অক্সিজেন এক্সপ্রেস। এ নিয়ে ভারত থেকে তিনটি চালানে মোট ৬০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন দেশে আসলো।