দুর্গাপূজায় সিএমপির ৩৪ নির্দেশনা

 প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:২২ অপরাহ্ন   |   পুলিশ প্রশাসন




আসন্ন দুর্গাপূজা-২০২১ উদযাপনের নামে পূজামন্ডপে কোনো ধরনের ডিজে পার্টি করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। একইসঙ্গে আতশবাজি ফুটানোসহ মোট ৩৪টি করণীয় ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সের কনফারেন্স হলে সরকারি অন্যান্য সংস্থা ও দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

সভায় করোনার এই প্রাদুর্ভাব পরবর্তী সময়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে নগরের জনসাধারণকে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাগুলো পালনের বিষয়ে সচেষ্ট থাকার অনুরোধ করা হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে-

১. পূজামন্ডপগুলোর প্রবেশমুখে পুরুষ ও নারীর জন্য পৃথকভাবে হাত ধোয়ার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও থার্মাল স্ক্যানার রাখা।

২. পূজামন্ডপে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।

৩. মন্ডপের চারদিকে বা উপরের অংশ উন্মুক্ত রাখা।

৪. মন্ডপের ভিতরে অধিক লোক অবস্থান না করা।

৫. প্রসাদ তৈরী ও বিতরণ সীমিত পর্যায়ে করা।

৬. প্রতিমা তৈরির সময় নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা।

৭. মন্ডপের প্রবেশমুখে ভীড় নিয়ন্ত্রণ করা এবং দর্শনার্থী আগমনে নিরুৎসাহিত করা।

৮. সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করা।

৯. জরুরি সেবাদানকারীদের ফোন ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা।

১০. বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখা।

১১. বিদ্যুতের ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ দ্রুত মেরামত করা।

১২. সার্বক্ষণিক একজন ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগ করা।

১৩. নিরাপদ স্থানে পূজা মন্ডপ স্থাপন করা।

১৪। হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।

১৫। ফায়ার এক্সটিংগুইসারের ব্যবস্থা করা।

১৬। পানির ব্যবস্থা করা।

১৭। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের জরুরি সেবার নম্বরগুলো দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা

১৮. মন্দির বা পূজামন্ডপে কোন প্রকার থিম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি না করা।

১৯. পূজা কমিটি নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব থাকলে নিজেরা অথবা মহানগর পূজা কমিটির সাথে আলোচনা করে মীমাংসা করা।

২০. অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টি থেকে সতর্ক থাকা। অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কোন কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকা।

২১. নামাজ ও আজানের সময়ে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখা।

২২. নির্দিষ্ট পার্কিং ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করা।

২৩. নারীরা যেন ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

২৪. পূজামন্ডপে আগত মহিলাদের উত্যক্ত/ইভটিজিং প্রতিরোধ করা।

২৫. পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক আসা-যাওয়ার পথ তৈরি করা।

২৬. মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা।

২৭. পূজামন্ডপের ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক সার্বক্ষণিক নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা।

২৮. স্বেচ্ছাসেবকদের চেনার সুবিধার্থে গেঞ্জি/ক্যাপ/আর্মডব্যান্ড ব্যবহার করা।

২৯. স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট প্রেরণ করা।

৩০. ঘটনার সংবাদ দ্রুততার সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা।

৩১. মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য গ্রহন করা থেকে বিরত থাকা।

৩২. পূজা মন্ডপের আশেপাশে মেলা বা জুয়ার আসর না বসানো।

৩৩. কোন ধরনের আতশবাজি বা পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকা।

৩৪. যেকোনো ধরনের গুজব বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে নিকটস্থ থানা বা পুলিশকে জানানো।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শামসুল আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার(সদর) আমির জাফর অন্যান্য উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, অফিসার ইনচার্জগণ, র‌্যাব, এপিবিএন, এনএসআই, ডিজিএফআই, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি এর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগরীর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন তালুকদার ও সেক্রেটারি প্রকাশ দাশসহ সব থানার পূজা উদযাপন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ প্রশাসন এর আরও খবর: